আমি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম : তামিম

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মঙ্গলবার (১১ জুন) নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ম্যাচ পূর্ববর্তীতে টাইগারদের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল নিজের ব্যাটিং নিয়ে কথা বলেছেন।

তিনি জানিয়েছেন নিজের ভুলেই এখন পর্যন্ত ভাল করতে পারেননি বিশ্বকাপে।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ খেলেছে টাইগাররা। আর তিন ম্যাচেই ইনিংসের গোড়াপত্তন করেছেন তামিম। তবে তিন ম্যাচের একটিতেও নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি দেশ সেরা এই ওপেনার।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তামিম করেছিলেন মাত্র ১৬ রান। নিউজিল্যান্ডের সাথে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে এবারের আসরে এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৪ রান আর সর্বশেষ ম্যাচে ইংলিশদের বিপক্ষে করেন মাত্র ১৯ রান।

তিন ইনিংসের একটিও হয়নি তামিমসুলভ। তাই তো সমর্থকরা বেশ হতাশ তামিমের উপর। কারণ সমর্থকেরা সব সময় তামিমের কাছ থেকে একটু বেশিই ভাল আশা করে থাকেন। আর তামিম নিজেই সে পথ দেখিয়েছে টাইগার সমর্থকদের। ২০১৫ পরবর্তী সময়ে তামিম বদলেছেন অনেক। নিজের খেলার ধরণ থেকে শুরু করে বদলে গেছে অনেক কিছুই।

নিজের ব্যাটিং নিয়ে তামিম বলেন, ‘আমার খারাপ পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। আমি মাঠের খেলায় ভুল করেছি বলে খারাপ করেছি। তবে প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষের ম্যাচটি আমি বাদ রাখতে চাই। কারণ ফেলুকাওয়ের ওই ডেলিভারিটি আসলে দারুণ ছিল। তবে বাকি দুই ম্যাচে যে বলে আমি আউট হয়েছি তা আমি ইচ্ছা করলেই অন্যভাবে খেলতে পারতাম। ভুল আমারই হয়েছিল।’

তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বেশ আত্মবিশ্বাসী তামিমকে দেখা যাচ্ছে। পরবর্তী ম্যাচে নিজের ব্যাটিং সম্পর্কে বলতে গিয়ে তামিম বলেন, ‘যদি আপনারা লক্ষ্য করেন তাহলে দেখবেন আমি যতক্ষণ ব্যাট করেছি ততক্ষণ বেশ ভালই করেছি। আমি একটা ভুল করেছি আর সেই ভুলেই আমাকে আউট হতে হয়েছে। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী রান আসবে। আগেও এমন সময় পার করেছি আমি। আমি জানি আমি পারবো।’

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে তামিম বদলে গেছেন এক অন্য রকম ওপেনার হিসেবে। গেল চার বছরে ৫১ ইনিংসে ৫৭ এর উপর ব্যাটিং গড় নিয়ে তামিমের সংগ্রহ ২৫১১ রান। আর এই সময়ে নামের পাশে ৭ সেঞ্চুরি আর ১৮টি অর্ধশতক যোগ করেছেন।

নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে তামিম আরও বলেন, ‘সমর্থকদের এমন আশা আমি নিজেই তৈরি করেছি। আমি আর কখনো ২০১৫ সালের ওই সময়টাতে ফিরে যেতে চাই না। কারণ সে সময়টা আমার এবং আমার স্ত্রীর জীবনে একটি কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। মানুষ খুব দ্রুত ভুলে যায় শেষ ৫০ ইনিংসে আমি কেমন খেলেছি।’

আমার খেলা শেষ ৫০টি ইনিংস এখন আর কোনো অর্থবহন করে না। বর্তমানে কে কেমন খেলছে সেটিই সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*